ওমর কিন্ডারগার্টেন স্কুল ও ওমর গার্টেন একাডেমি জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলা সদরে অবস্থিত একটি স্বনামধন্য স্কুল। ২০০৩ সালে ১লা জানুয়ারি প্রতিষ্ঠানটি ওমর সাইন্স স্কুল এন্ড টেকনিক্যাল কলেজ নামে শুরুতে ষষ্ঠ শ্রেণিতে মাত্র ৩২ জন শিক্ষার্থী নিয়ে পথ চলা শুরু করে। কালাইয়ের মত একটি মফস্বল শহরে আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুরু করার লক্ষ্যে বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব আব্দুর রশিদ তালুকদার তার একমাত্র পুত্রের নামানুসারে প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ করেন। ২০০৭ সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠাকালীন নাম পরিবর্তন করে ওমর কিন্ডারগার্টেন স্কুল এন্ড ওমর গার্টেন একাডেমি নামে পরিচিতি লাভ করে। ২০০৩ সাল থেকে ১৪ই ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠাতা জনাব আলহাজ্ব আব্দুর রশিদ তালুকদার অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৩ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠাতা জনাব আব্দুর রশিদ তালুকদার মৃত্যুবরণ করলে তার সুযোগ্য পুত্র জনাব আলহাজ্ব ওমর আব্দুল আজিজ তালুকদার অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং অদ্যাবধি অত্যন্ত সুনিপুণভাবে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে আসছেন। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে মাত্র দুইজন শিক্ষক — জনাব মোঃ দেলোয়ার হোসেন ও মোঃ বজলুর রশিদ — দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ৮০ জন শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত আছেন। ২০০৪ সালে ৩য় থেকে ৭ম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম চালু করা হয়। এরপর ২০০৫ সালে প্লে থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয় এবং ২০০৭ সাল থেকে প্লে থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
২০০৮ সালে সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠানটি এস.এস.সি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এবং সকলেই কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়। প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে প্রয়োজনীয় অফিসকক্ষ, অধ্যক্ষ মহোদয়ের কক্ষ, নিজস্ব লাইব্রেরি ও অত্যাধুনিক কম্পিউটার ল্যাব। একাডেমিক মান উন্নয়নের জন্য ক্লাসটেস্ট, মধ্যপর্ব ও পর্ব সমাপনী পরীক্ষা, নম্বরপত্র প্রদান এবং অভিভাবক সমাবেশের আয়োজন করা হয়। খেলাধুলা, শিক্ষা-সংস্কৃতিসহ সামাজিক কার্যাবলীতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণ ও সাফল্য অনস্বীকার্য। প্রতিবছর বার্ষিক ক্রীড়া, বিজ্ঞানমেলা, পিঠামেলা, শিক্ষা সফরসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান জাঁকজমকের সাথে পালন করা হয়। বিদ্যালয়টি অধ্যক্ষ মহোদয়, পরিচালক ও স্থানীয় কমিটি দ্বারা পরিচালিত হয়।
ওমর কিন্ডারগার্টেন স্কুল ও ওমর গার্টেন একাডেমি বর্তমানে জয়পুরহাট জেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হিসেবে পরিচিত। মরহুম আলহাজ্ব মোঃ আব্দুর রশিদ তালুকদারের প্রচেষ্টায় কালাইয়ে শিক্ষা ট্রাস্ট বৃত্তি পরীক্ষা চালু হয় এবং এলাকার কৃতী শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বৃত্তি প্রদান করা হয়, যা বর্তমানে সরকারি প্রশাসন দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। বিদ্যালয়টিতে রয়েছে ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস; ফলে দূর-দূরান্ত থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা পড়াশোনার জন্য এই বিদ্যালয়ে আসে। শ্রেণিকক্ষগুলোতে সি.সি ক্যামেরা সংযোগ করা হয়েছে। যাতায়াতের জন্য রয়েছে প্রতিষ্ঠানের বাস, খাওয়ার জন্য ক্যান্টিন এবং মাঝে মাঝে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করা হয়। প্রায় দুই হাজার উন্নত মানের বই নিয়ে রয়েছে নিজস্ব লাইব্রেরি এবং জ্ঞানের বিকাশে ছোট ছোট সংগঠন।
অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রয়েছে সম্পূর্ণ কোলাহলমুক্ত দুটি আবাসিক ভবন — একটি ছেলেদের ও অপরটি মেয়েদের জন্য। আবাসিক পরিচালনার জন্য রয়েছে দুইজন দক্ষ শিক্ষক।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিটি পাবলিক পরীক্ষায় শতভাগ পাশের ধারাবাহিকতা
| সাল | পরীক্ষার্থী | A+ | A | পাশের হার | বৃত্তি |
|---|---|---|---|---|---|
| ২০০৬ | ৪২ | ৩০ | ১২ | ১০০% | ০৩ |
| ২০০৭ | ৫২ | ৪০ | ১২ | ১০০% | ০৮ |
| ২০০৮ | ৪৪ | ৩৮ | ০৬ | ১০০% | ১৩ |
| ২০০৯ | ৫১ | ৪৭ | ০৪ | ১০০% | ০৪ |
| ২০১০ | ৫৪ | ৪৫ | ০৯ | ১০০% | ০৭ |
| ২০১১ | ৫৮ | ৪২ | ১৬ | ১০০% | ০৯ |
| ২০১২ | ৬৭ | ৫২ | ১৫ | ১০০% | ১৪ |
| ২০১৩ | ৭৪ | ৫০ | ২৪ | ১০০% | ০৭ |
| ২০১৪ | ৮৫ | ৫৬ | ২৯ | ১০০% | ০৬ |
| ২০১৫ | ৮৩ | ২৪ | ৫৬ | ১০০% | ১৪ |
| ২০১৬ | ১১০ | ৫৪ | ৫৬ | ১০০% | ১৯ |
| ২০১৭ | ৮৯ | ৩০ | ৫৯ | ১০০% | ০৮ |
| ২০১৮ | ৮৯ | ৬৯ | ২০ | ১০০% | ০৮ |
| ২০১৯ | ১০৮ | ৫১ | ৫২ | ১০০% | ০৯ |
| সাল | পরীক্ষার্থী | A+ | পাশের হার | বৃত্তি |
|---|---|---|---|---|
| ২০১০ | ৫১ | ২৯ | ১০০% | ০৬ |
| ২০১১ | ৩৯ | ১৫ | ১০০% | ০৯ |
| ২০১২ | ৬৬ | ২৩ | ১০০% | ১৪ |
| ২০১৩ | ৪৮ | ৩৮ | ১০০% | ০৭ |
| ২০১৪ | ৭৯ | ৫৬ | ১০০% | ১৭ |
| ২০১৫ | ৮২ | ৭৪ | ১০০% | ২৪ |
| ২০১৬ | ১০৬ | ১০৫ | ১০০% | ৩৫ |
| ২০১৭ | ১১৮ | ১১৬ | ১০০% | ৩৪ |
| ২০১৮ | ১১৩ | ৫৬ | ১০০% | ২৫ |
| ২০১৯ | ১৫২ | ১১২ | ১০০% | ৩৮ |
| সাল | পরীক্ষার্থী | A+ | পাশের হার |
|---|---|---|---|
| ২০০৮ | ৩২ | ০২ | ১০০% |
| ২০০৯ | ২৬ | ০৬ | ১০০% |
| ২০১০ | ৩৮ | ১৫ | ১০০% |
| ২০১১ | ৪২ | ০৭ | ১০০% |
| ২০১২ | ৩৭ | ১০ | ১০০% |
| ২০১৩ | ৩৯ | ১৫ | ১০০% |
| ২০১৪ | ৩৮ | ৩৪ | ১০০% |
| ২০১৫ | ২৫ | ১৬ | ১০০% |
| ২০১৬ | ৫২ | ৩৮ | ১০০% |
| ২০১৭ | ৫৩ | ৩৩ | ১০০% |
| ২০১৮ | ৮৩ | ৭৭ | ১০০% |
| ২০১৯ | ৯৭ | ৫৬ | ১০০% |
প্রতিষ্ঠানে মোট ৮০ জন শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত আছেন

অধ্যক্ষ

সহকারী প্রধান শিক্ষক

সহকারী শিক্ষক

সহকারী শিক্ষিকা

হিসাব কর্মকর্তা